Headlines

Search This Blog

Blog Archive

তোমাদের কি হল...


১৯২৪ খৃস্টাব্দ। উম্মতের মহা-দূর্যোগপূর্ণ সময়।খেলাফতের শেষ  চিহ্নটাও মুছে গেল।উসমানী খেলাফতের অবসান হলো।অবসান হলো তুর্কিস্তান এর।তৈরি হলো গাদ্দার আর লোভী শাসক। কাফেররা উম্মতের একীভূত জমিনকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করল।
বলল- এই হচ্ছে তোমাদের দেশ,আর এই হচ্ছে তোমাদের পতাকা।একটি ইসলামিক ভূখণ্ডকে বহু ভূখণ্ডে পরিণত করল গৃহপালিত দালাল শাসকদের মাধ্যমে।লোভ-লালসার ভারে উম্মতকে নুইয়ে রাখল।উম্মতের মাঝে ব্যপক করল ভ্রান্ত মতবাদ আর কূ-সংস্কার।অন্ধ করে রাখল অশ্লীলতা আর দুনিয়ার চাকচিক্য দিয়ে। বধির করে রাখল উম্মতকে।উম্মত ভুলে গেল-কে সে? কি তার আসল পরিচয়?
  কালের ঘূর্ণিপাকে মুসলিমরা নিজ ভূমিতে পরাধীন হতে লাগল।পিষ্ট হতে লাগল সাদা চামড়ার কাফের আর বাদামী চামড়ার গোলামদের অত্যাচারে।মজলুম মুসলমানরা কিছুই করতে পারল না।তাদের ঈমানী শক্তি বহু আগেই দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।তারা নিজেদের উপর কৃত অত্যাচার রুখতে পারল না।সয়ে যেতে লাগল।
  চাপিয়ে দিল মুসলমানদের উপর মানবরচিত বিধান।আল্লাহর আইনের পরিবর্তে মানুষের বানোয়াট আইন দ্বারা শাসিত হতে লাগল।যে আইনে আল্লাহকে বাদ দিয়ে গায়রুল্লাহর দাসত্ব করা হয়।যে দাসত্ব পাওয়ার হকদার একমাত্র আল্লাহ।তাদের বিরোধিতা করার কেউ ছিল না।এভাবেই চলতে থাকল কিছুকাল।
আবার মুসলিমরা জাগতে শুরু করল।তাদের ঈমানী নূর বিকিরণ ছড়ালো।আওয়াজ তুলল আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ইলাহ জানি না।মানি না তাঁর বিধান ব্যতিত কোন বিধান। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই।আমরা তার সাথে কাউকে শরীক করি না।  পরিনাম ভালো হলো না মুসলিমদের।সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে নিষ্পাপ শিশুদের দেহ ক্ষত-বিক্ষত করা হলো।দেহ ঝলসিয়ে দেওয়া হলো ফসফরাস বোমায়।মাথার খুলি উড়িয়ে দেয়া হলো।গুলি দিয়ে মেরে মেরে শেষ করা গেল না।তাই গ্যাস দিয়ে পাইকারি হারে কীট-পতঙ্গের ন্যায় হত্যা করা হলো।লাশ জমতে লাগল।জমতে জমতে স্তুপ হয়ে গেল।সাগরের ঢেউয়ের সাথে ভেসে যেতে লাগল নিষ্পাপ শিশুর মৃতদেহ। হাসপাতাল গুলোতে আহাজারি বাড়তে লাগল।ঔষধের অভাবে,ডাক্তারের অভাবে মরতে লাগল উম্মত।
  কারো পা নেই, কারো হাত নেই।কারো মাথার মগজ বেরিয়ে গেছে।কারো হৃৎপিণ্ড ফুড়ে বেরিয়ে গেছে বুলেট কিংবা বোমার স্প্রিন্টার।
সবাই রক্তেমাখা।চোখের সামনে ঝরে যাচ্ছে উম্মতের ফুলের মত নিষ্পাপ শিশুরা।
''আল্লাহর কাছে বলে দেবে" এই অভিযোগ করে চলে যাচ্ছে দুনিয়া ছেড়ে। রাস্তার ধারে পড়ে আছে কারো নয়নের মণি।আর শরীরে মাছি ভনভন করে উড়ছে। তাকে দেখার মত কেউ বেচে নেই।
হায় মানবতা!হায় ইনসানিয়াত।কোথায় তুমি।
খাদ্য আর দুধের অভাবে মারা যাচ্ছে কোলের শিশুরা। তাদের সাহায্য করার কেউ নেই।তাদের জন্য এগিয়ে আসে না কোন ত্রান সংস্থা। এগিয়ে আসেনা ইসলামের ধারক-বাহক আরবরাও।আসেনা মুসলিম দাবিদার কোন অনারব।তাদের কান্না আর হাহাকার কারো কর্ণকুহর ছেদ করে না।কারো অন্তর বিদীর্ণ করে না।
হায় মানবতা! হায় মুসলিম!
তোমাদের কী হলো।
  অনাহারে হত্যা করার উদ্দেশ্যে চারদিক ঘেরাও দিয়ে রাখল কাফেররা।না খেয়ে মরতে লাগল শত শত আল্লাহর বান্দা।রাস্তায় রাস্তায় খাবার খুজতে লাগল আমাদের ভাই ও শিশুরা।
অবরুদ্ধ হলো আল-আকসা। পবিত্র ভূমিকে কব্জা করে রাখল নাপাক ইহুদীরা।উম্মতের রক্তে রাঙিয়ে দেওয়া হলো আল-আকসাকে।বানর, শুকরের সন্তান ইহুদীরা নাপাক দেহ নিয়ে, নাপাক বুট পরে আল আকসার পবিত্র জমিনের উপর দাড়িয়ে রইল দম্ভ ভরে।গোলার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করতে লাগল আকসার দেহকে।
আর আয়েশ করে দূর থেকে দাড়িয়ে মুসলিমদের ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে লাগল বানর ও শুকরের সন্তান ইহুদীরা।
  এতটুকুতেই ক্ষ্যন্ত না।উম্মতের মা-বোনদের সম্মানহানি করা হলো।ধর্ষণ করা হলো এককবার,দুইবার,দশবার অসংখ্যবার।অতপর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হলো।যারা বেচে ছিল তারা চিৎকার করে বলতে লাগল -
হে উম্মতের পূরুষেরা!
তোমরা কোথায়? কোথায় তোমাদের মর্দানি।
কোথায় উম্মত,কোথায় ইসলাম?
কোথায় উম্মতের নারীরা, কোথায়?
হে উম্মতের পূরুষেরা আমরা তোমাদের উদ্ধারাভিযানের অপেক্ষায়।
তাকিয়ে দেখ আমাদের দিকে হে উম্মতের পূরুষেরা। রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া আমাদের দিকে তাকাও!
দেখো আমাদের সম্মান ধূলোয় মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কোথায়?  কোথায় উম্মতের বীরেরা?
তোমাদের কী হলো!
এতো কিছুর পরেও আজ আমরা ব্যস্ত নিজের দুনিয়া নিয়ে।নিজের সুখ আর শান্তি নিয়ে।সন্তান আর পরিবার নিয়ে।অট্টহাসি আর রঙিন বিনোদনের আড়ালে উম্মতের রক্ত ফিকে হয়ে যায়।
হায় আমাদের কী হল।

Share this:

Post a Comment

 
Copyright © Islam Awaz. Blog Templates Designed by OddThemes